হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম কীভাবে তৈরি হয়




হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম কীভাবে তৈরি হয়
তারার ভেতরে যে প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম তৈরি হয় — সেটাই মহাবিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া ছাড়া তারা জ্বলত না, সূর্য থেকে আলো আসত না, পৃথিবীতে প্রাণ থাকত না।
প্রক্রিয়াটার নাম "প্রোটন-প্রোটন চেইন"। সূর্যের মতো মাঝারি তারায় এই পদ্ধতিতেই হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম তৈরি হয়। ধাপে ধাপে বোঝানো যাক।
হাইড্রোজেন পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে একটি প্রোটন। তারার কেন্দ্রে তাপমাত্রা প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই অবিশ্বাস্য তাপমাত্রায় দুটো প্রোটন এতটাই দ্রুত ছোটে যে একে অপরের কাছে পৌঁছে মিলে যায়। স্বাভাবিকভাবে একই ধরনের চার্জের কণা একে অপরকে ঠেলে দেয় — কিন্তু এত বেশি চাপ আর তাপে "কোয়ান্টাম টানেলিং" এর মাধ্যমে তারা বাধা পেরিয়ে মিলে যায়।
দুটো প্রোটন মিললে তৈরি হয় ডিউটেরিয়াম — হাইড্রোজেনের একটি ভারী রূপ। এই প্রক্রিয়ায় একটি পজিট্রন আর একটি নিউট্রিনো বের হয়। তারপর সেই ডিউটেরিয়ামের সাথে আরেকটি প্রোটন মিলে তৈরি হয় হিলিয়াম-৩। শেষে দুটো হিলিয়াম-৩ মিলে তৈরি হয় একটি পূর্ণ হিলিয়াম-৪ আর দুটো প্রোটন বের হয়ে আসে।
পুরো প্রক্রিয়ায় ভরের সামান্য অংশ হারিয়ে যায়। আইনস্টাইনের E=mc² অনুযায়ী সেই সামান্য ভরই পরিণত হয় বিশাল শক্তিতে। আমাদের সূর্য প্রতি সেকেন্ডে এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪০ লাখ টন ভর শক্তিতে রূপান্তরিত করছে — সেটাই আলো আর তাপ হয়ে পৃথিবীতে আসছে!

Collected 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সৌরজগতের সীমানা কোথায়

The most beautiful rainy season in Bangladesh

মহাবিশ্ব শুধু দূরের কোনো অজানা জগত নয়, বরং এটি আমাদের নিজেরই বিস্তৃত পরিচয়।