পোস্টগুলি

গ্রহগুলো গোল না হয়ে চ্যাপ্টা বা সমতল হলে কেমন হতো??

ছবি
        ধরুন , আপনি পৃথিবীর ম্যাপ দেখছেন। হঠাৎ করে ম্যাপটা আর কাগজ থাকল না, ওটাই হয়ে গেল আস্ত একটা গ্রহ! আমাদের চিরচেনা নীল পৃথিবী, লাল মঙ্গল কিংবা বলয় ঘেরা শনি সবগুলো যদি ফুটবল বা কমলার মতো (তুলনামূলক) গোল না হয়ে কথার কথা একটা কয়েনের মতো সমতল হতো? শুনতে সিনেমার মতো মনে হলেও, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি এক মহাজাগতিক বিপর্যয়ের গল্প। আজ আমরা জানব, গ্রহগুলো সমতল হলে মহাবিশ্বের পদার্থবিজ্ঞান কীভাবে ভেঙে পড়ত। আর এই গল্পের সূত্রপাত করেছিলেন এই পেজের অত্যন্ত আন্তরিক একজন সদস্য "ডিওন", তাঁর এক কৌতুহলী মন্তব্যে। চলুন, তাহলে চ্যাপ্টা গ্রহের অবস্থা একটু হিসেব করে দেখি। একটি গোল গ্রহে মাধ্যাকর্ষণ সবদিক থেকে কেন্দ্রের দিকে টানে, তাই আমরা সব জায়গায় সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারি। কিন্তু পৃথিবী যদি সমতল হতো, তবে তার মাধ্যাকর্ষণ হয়ে উঠত এক জটিল খেলা। আপনি যখন এই সমতল পৃথিবীর একদম কেন্দ্রে থাকবেন, তখন অভিকর্ষ স্বাভাবিক (নিচের দিকে) কাজ করবে। কিন্তু যতই কিনারার দিকে যাবেন, অভিকর্ষ আপনাকে পেছনের দিকে অর্থাৎ কেন্দ্রের দিকে টানতে থাকবে। অনুভব করবেন যেন খাড়া পাহাড় বেয়ে উপরে উঠছেন। মঙ্গল হোক বা শুক্র, ক...

তবে কি আমরা নিরন্তর ছুটে চলছি!!

ছবি
পৃ থিবীর একরকম ব্যক্তিগত বডিগার্ড হলো আমাদের চাঁদ।কথাটি শুনতে কাব্যিক মনে হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর বৈজ্ঞানিক সত্য। আমাদের প্রিয় চাঁদ শুধু রাতের আকাশে সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং এটি পৃথিবীর স্থিতিশীলতা, জীবনধারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি বিবর্তনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ। প্রথমত, চাঁদ পৃথিবীর axial tilt স্থিতিশীল রাখে। আজ পৃথিবীর অক্ষ প্রায় ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে আছে। এই ঝোঁকের কারণেই আমরা ঋতু পরিবর্তন দেখি। কিন্তু চাঁদ না থাকলে এই ঝোঁক ভয়ঙ্করভাবে দুলতে পারত, যেমনটা দেখা যায় মঙ্গল গ্রহে। এর ফলে পৃথিবীর জলবায়ু হতো অত্যন্ত অস্থির। কখনো তীব্র শীত, কখনো চরম গরম, যা জীবনের জন্য মারাত্মক হতো। দ্বিতীয়ত, চাঁদ সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা নিয়ন্ত্রণ করে। এই tidal forces শুধু সমুদ্রের পানি ওঠানামা করায় না, বরং পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীর করে এবং জীববৈচিত্র্যের বিকাশে ভূমিকা রাখে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রাচীন পৃথিবীতে এই জোয়ার-ভাটার পরিবর্তনই জীবনের প্রথম রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোর পরিবেশ তৈরি করেছিল। তৃতীয়ত, চাঁদ একটি গ্র্যাভিটেশনাল শিল্ড হিসেবেও কাজ করে। অনেক উল্কাপিণ্ড ও ধ্বংসাবশেষ, যা পৃথিবীর দিকে আসতে পারত, তার কিছ...

আমরা সবাই কোথায় ছুটে চলছি!

ছবি
আমরা জানি পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, আমাদের এই বিশাল নক্ষত্রপুঞ্জ, আমাদের এই মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি আসলে কাকে কেন্দ্র করে ঘুরছে? এর গন্তব্য কোথায়? শুরুতে একদম বেসিক জায়গা থেকে শুরু করা যাক। আমরা ছোটবেলা থেকেই পড়ে আসছি, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে। পৃথিবী সেকেন্ডে প্রায় ৩০ কিলোমিটার গতিতে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। কিন্তু সূর্য নিজেও কিন্তু স্থির হয়ে বসে নেই। আমাদের সূর্য, তার পুরো পরিবার অর্থাৎ পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতিসহ সব গ্রহকে নিয়ে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করছে। এখন প্রশ্ন হলো, মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে কী আছে? কী এমন শক্তিশালী জিনিস যা কোটি কোটি নক্ষত্রকে নিজের মায়ার বাঁধনে আটকে রেখেছে? উত্তরটা হলো, একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল, যার নাম Sagittarius A*। এটি আমাদের সূর্যের ভরের চেয়ে প্রায় ৪০ লক্ষ গুণ বেশি ভারী! হ্যাঁ, সূর্যের অভিকর্ষ বলই পৃথিবীকে ধরে রেখেছে, আর এই ব্ল্যাক হোলটি সূর্যের চেয়ে ৪০ লক্ষ গুণ ভারী! এর অকল্পনীয় মহাকর্ষীয় টানের কারণেই আমাদের গ্যালাক্সির স্পাইরাল আর্ম বা বাহুগুলো টিকে আছে। আমাদের স...

স্ট্রিং থিওরির ১১ মাত্রা: আমাদের চোখে অদৃশ্য মহাবিশ্বের দরজা

ছবি
ধ রা যাক আপনার সামনে একটি সরু বৈদ্যুতিক তার টানটান করে বাঁধা আছে। দূর থেকে তাকালে তারটি আপনাকে কেবল একটি সরল রেখা মনে হবে, যা একটি মাত্র দিকে প্রসারিত। কিন্তু এবার কল্পনা করুন সেই তারের উপর একটি ক্ষুদ্র পিঁপড়ে হাঁটছে (এই পোস্টের সাথে দেওয়া ছবিটি একবার দেখে নিন)। আমাদের চোখে যে তারটি শুধু সামনে পেছনে প্রসারিত একটি রেখা, পিঁপড়েটির কাছে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগৎ। কারণ সে শুধু সামনে পেছনে হাঁটতে পারে না, চাইলে সে তারটির চারপাশেও ঘুরেও যেতে পারে। অর্থাৎ আমাদের কাছে যে জিনিসটি একমাত্রিক মনে হয়, তার কাছে সেখানে আরও একটি লুকানো দিক আছে। এই ছোট উদাহরণটি ব্যবহার করেই আধুনিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের একটি গভীর ধারণা বোঝা যায়, সম্ভবত আমাদের মহাবিশ্বেও এমন কিছু মাত্রা রয়েছে, যেগুলো আমরা সরাসরি দেখতে পাই না। আমরা সাধারণত মনে করি মহাবিশ্বের তিনটি স্থানিক মাত্রা আছে— দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা। এর সাথে যুক্ত হয় সময়, যা আমাদের বাস্তবতাকে চার মাত্রিক করে তোলে। এই ধারণাটিই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল Albert Einstein-এর বিখ্যাত General Relativity তত্ত্বে, যেখানে বলা হয় মহাবিশ্ব আসলে একটি চারমাত্রিক কাঠাম...

মহাবিশ্ব শুধু দূরের কোনো অজানা জগত নয়, বরং এটি আমাদের নিজেরই বিস্তৃত পরিচয়।

ছবি
মা নুষ যখন প্রথম রাতের আকাশের দিকে তাকিয়েছিল, তখন হয়ত সে জানতই না যে ওই অসংখ্য আলোর বিন্দুর মধ্যে লুকিয়ে আছে তার নিজের অস্তিত্বের গল্প। জ্যোতির্বিজ্ঞান সেই গল্প পড়ার এক বিস্ময়কর ভাষা। এটি কেবল নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা দূরবর্তী মহাকাশের কোনো শুষ্ক বৈজ্ঞানিক তালিকা নয় বরং এটি এমন এক জ্ঞানভুবন যেখানে সৃষ্টি, সময়, পদার্থ, আলো এবং মানুষের কৌতূহল একসাথে মিলিত হয়েছে। এই কারণেই জ্যোতির্বিজ্ঞান একই সঙ্গে গভীর, জীবনঘনিষ্ঠ এবং রোমাঞ্চকর। এবং অবশ্যই আমাদের পছন্দের একটি বিষয়। মহাবিশ্বের দিকে তাকালে আমরা কেবল দূরের কোনো জগত দেখি না, আমরা দেখি আমাদের নিজের জন্মের ইতিহাস। আজ বিজ্ঞানীরা জানেন, আমাদের শরীরের কার্বন, অক্সিজেন কিংবা লোহা এসব উপাদান কোনো না কোনো প্রাচীন নক্ষত্রের অন্তরে তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ আমরা আসলে “স্টারডাস্ট”, বা নক্ষত্রের ধুলো। কোটি কোটি বছর আগে কোনো বিশাল নক্ষত্র বিস্ফোরিত হয়ে যে উপাদান ছড়িয়ে দিয়েছিল মহাকাশে, সেই উপাদান থেকেই একদিন তৈরি হয়েছে সূর্য, পৃথিবী এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ। এই উপলব্ধি আমাদের অস্তিত্বকে এক অনন্য মহাজাগতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড় করায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের আরেক...

আপনি-আমি মহাবিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ

ছবি
    আ পনার শরীরের সবচেয়ে পুরনো অংশটার বয়স কত? আপনি হয়তো বলবেন, "আমার তো বয়স ৩০ কি ৪০ বছর হবে!"  কিন্তু আমি বলছি, আপনার বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙুলের একটা লোহার পরমাণুর বয়স প্রায় ৭০০ কোটি বছর! ইতিহাস? এক সময় ছিল যখন কিছুই ছিল না। শুধু অন্ধকার আর উত্তপ্ত গ্যাসের এক বিশাল সমুদ্র। এই বিশৃঙ্খলার মাঝে একদিন জন্ম নিল প্রথম আলো, প্রথম নক্ষত্র। এই নক্ষত্রগুলো কিন্তু শুধু জ্বলেনি। তারা ছিল মৌলের এক বিশাল কারখানা। তাদের বুকে প্রচণ্ড চাপ আর তাপে তৈরি হতে লাগলো সোনা, রূপা, আমাদের হাড়ের ক্যালসিয়াম আর শ্বাস নেওয়ার অক্সিজেন। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে তারা জ্বলে পোড়ে নিজেরাই তৈরি করল আমাদের শরীরের ইটগুলো। তারপর একদিন সেই নক্ষত্রগুলো যখন বুড়ো হয়ে গেল, তখন তারা বিশাল এক বিস্ফোরণে নিজেদের শেষ করে দিল। তাদের মৃত্যুর এই আগুনে ছড়িয়ে পড়ল সেই সব উপাদান। ছড়িয়ে পড়ল সেই ধুলো, গ্যাস আর কারখানায় তৈরি করা সব মালামাল। আর সেই ধুলো থেকেই একদিন জমাট বেঁধে জন্ম নিল আমাদের পৃথিবী। আর আজ আমি আর আপনি দাঁড়িয়ে আছি। মানে, ঠিক দাঁড়িয়ে নয় বরং সেই মৃত নক্ষত্রদের ধুলো নিয়ে আমরা হাঁটছি। যখন আপনি শ্বাস নেন...

জীব কোষের ভেতর লুকিয়ে আছে মহাবিশ্ব

ছবি
আ জকে আমরা একটা জার্নিতে যাব। যার গন্তব্য এতই ছোট যে খালি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু সেই ছোট্ট জগৎটার ভেতর এত রহস্য লুকানো যে মহাবিশ্বকেও হার মানায়। আজ আমরা কথা বলব সেই জীব কোষের বৈজ্ঞানিক রহস্য নিয়ে। আমাদের এই শরীরটা ভাবুন। এই যে আপনি বসে এই লেখা পড়ছেন, আপনার হাত নড়ছে, চোখের পাতা ফেলছে, এই সবকিছুর পেছনে কাজ করছে কয়েক ট্রিলিয়ন ছোট ছোট কারখানা। প্রতিটা কারখানা এতটাই নিপুণ, এতটাই জটিল যে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিও এখনো তার সব রহস্য পুরোপুরি উন্মোচন করতে পারেনি। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগছে? চলুন, তাহলে শুরু করা যাক। একটা সাধারণ প্রাণীকোষের কথা চিন্তা করুন। এটাকে আপনি একটা প্রকান্ড শহর হিসেবে কল্পনা করুন। চারপাশে আছে একটা সীমান্তপ্রাচীর—কোষঝিল্লি। কিন্তু এই প্রাচীর কিন্তু সাধারণ ইট-পাথরের তৈরি না। এটা অতীব বুদ্ধিমান একটা ফটকওয়ালা দেয়াল। এটা ঠিক করে দেয় কে ভেতরে ঢুকবে, কে বের হবে। আয়ন, গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড—প্রত্যেকের জন্যই আলাদা ফটক। শহরের নিরাপত্তা রক্ষা করাই এর কাজ। শহরের ভেতরে ঢুকলেই দেখবেন একটা অদ্ভুত ব্যাপার। পুরো শহর জুড়ে একটা জেলির মতো পদার্থ ভরা, যাকে বলে সাইটোপ্লাজম। এই জেলি...