পোস্টগুলি

ব্ল্যাক হোল কোনো গর্ত নয়, এটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে ঘন ‘ইনফরমেশন ডিস্ট্রিক্ট’!

ছবি
Black holes are not holes; They are the densest ‘Information Districts’ in the universe! আ মরা যখন ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের ছবি দেখি, আমাদের মনে হয় এটি বুঝি মহাবিশ্বের বুকে তৈরি হওয়া বিশাল কোনো অন্ধকার কুয়া বা অসীম সুড়ঙ্গ, যার ভেতর একবার ঢুকলে আর কোনোদিন বের হওয়া যায় না। কিন্তু আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, বিশেষ করে ইনফরমেশন ফিজিক্স আমাদের এই চেনা ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছে। বিজ্ঞানের নিখুঁত সমীকরণগুলো আজ দেখাচ্ছে যে, ব্ল্যাক হোল আক্ষরিক অর্থেই কোনো ফাঁপা সুরঙ্গ বা গর্ত নয়; বরং  এটি হলো এই পুরো মহাবিশ্বের সবচেয়ে আদিম এবং সবচেয়ে ঘন তথ্যের এক মহাজাগতিক ডেটা হাব! লজিকটি কী? সূর্যের ভরের চেয়ে অন্তত ২০-৩০ গুন বেশি একটি নক্ষত্র যখন তার জীবনের শেষ সময়ে এসে নিজের সমস্ত জ্বালানি হারিয়ে ফেলে, তখন সুপারনোভা বিস্ফোরণে অবশিষ্টাংশ তার নিজস্ব মহাকর্ষ বলের প্রচণ্ড টানে নক্ষত্রটি ভেতরের দিকে সংকুচিত হতে শুরু করে। সঙ্কুচিত হতে হতে একপর্যায়ে এটি এত ক্ষুদ্র এবং অতি-ঘন একটি বিন্দুতে পরিণত হয় যে, তার চারপাশের স্থান-কাল (Space-time) মারাত্মকভাবে বেঁকে যায়। পদার্থবিজ্ঞানের লজিক বলে, ব্ল্যাক হোলের যদি এ...

যেদিন সূর্যের প্রতিটি ফোটন হবে মানুষের সম্পদ

ছবি
টাইপ-২ সভ্যতা: যেদিন সূর্যের প্রতিটি ফোটন হবে মানুষের সম্পদ! ( Type-II Civilization: The Day Every Photon of the Sun Becomes Human Wealth!) আ মরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, সূর্য প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ শক্তি বিলিয়ে দিচ্ছে, আমরা তার কতটুকু কাজে লাগাতে পারছি? সত্যি বলতে, আমরা কেবল তার এক অতি সামান্য অংশ ব্যবহার করছি, আর বাকি পুরোটা মহাশূন্যের অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। এই যে হারানো শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করে নিজেদের সভ্যতা বদলে ফেলার এক অসাধ্য সাধন করার নামই হলো টাইপ-২ সভ্যতা। সভ্যতার অগ্রগতির এই বৈজ্ঞানিক মাপকাঠিটি ১৯৬৪ সালে বিশ্বকে প্রথম জানিয়েছিলেন সোভিয়েত জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাই কারদাশেভ। তার নাম অনুসারে এটি 'কারদাশেভ স্কেল' নামে অভিহিত করা হয়।  কারদাশেভ স্কেল অনুযায়ী, মূলত সভ্যতাকে তিনটি প্রধান ধাপে ভাগ করা হয়। টাইপ-১ সভ্যতা হলো সেই সভ্যতা যারা তাদের গ্রহের পুরো শক্তি ব্যবহার করতে পারে। টাইপ-২ সভ্যতা হলো, যারা সরাসরি তাদের নিজ নক্ষত্রের বিকিরণ করা প্রায় পুরো শক্তির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে এবং টাইপ-৩ সভ্যতা হলো, যারা পুরো ছায়াপথের শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা রাখে। মানুষ হিসেবে আমরা বর...

মহাবিশ্বের আদিযুগের গ্যালাক্সি ঘূর্ণনহীন – দেখে চমকে গেলেন বিজ্ঞানীরা!

ছবি
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ আবারও মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে নাড়িয়ে দিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমন এক বিশাল গ্যালাক্সির সন্ধান পেয়েছেন, যা সৃষ্টি হয়েছিল বিগ ব্যাংয়ের মাত্র দুই বিলিয়ন বছরের মধ্যেই—কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, গ্যালাক্সিটি একদমই ঘুরছে না! সাধারণত নবীন গ্যালাক্সিগুলোতে প্রচণ্ড ঘূর্ণন দেখা যায়, কারণ গ্যাস, ধূলিকণা ও মহাকর্ষের প্রভাবে তারা জন্মের সময় থেকেই ঘুরতে শুরু করে। কিন্তু XMM-VID1-2075 নামের এই গ্যালাক্সিটি যেন সেই চেনা নিয়মই মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এত প্রাচীন সময়ে এমন “slow rotator” বা ধীর/অঘূর্ণনশীল গ্যালাক্সির অস্তিত্ব বর্তমান গ্যালাক্সি-গঠনের তত্ত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এই রহস্যময় গ্যালাক্সিটি শুধু ঘূর্ণনহীনই নয়, এটি অবিশ্বাস্য রকমের বিশালও। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, তখনকার তরুণ মহাবিশ্বেই এর ভর আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ছিল। আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হলো—এটি নতুন নক্ষত্র তৈরি করাও প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের অতিসংবেদনশীল পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা গ্যালাক্সিটির ভেতরের নক্ষত্রগুলোর চলাচল বিশ্লেষণ ক...

যে গ্রহে কাঁচের বৃষ্টি হয়। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, সেখানে কাঁচের বৃষ্টি হয়।

ছবি
আমি মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে খুব ভালোবাসি। আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন‌ যদি একজন মানুষ এক সপ্তাহ খাবার ও পানি না পায়, তাহলে সে মারা যেতে পারে, কারণ এগুলো মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। কিন্তু যদি আমি নিজের কথা বলি, তাহলে আমি খাবার ও পানির পাশাপাশি জ্যোতির্বিজ্ঞান ছাড়াও থাকতে পারি না। কারণ এটি আমার বেঁচে থাকার একটি কারণ। যখন নাসা থেকে মহাবিশ্ব সম্পর্কে কোনো আপডেট আসে, তখন আমি খাওয়া-দাওয়া বা খুব জরুরি কাজও ছেড়ে দিয়ে সেই লেখা শেষ পর্যন্ত পড়ি, কারণ সেই সময় আমার ক্ষুধা যেন মিটে যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞান এক ধরনের নেশা, আর এই নেশা সব নেশার চেয়েও শক্তিশালী। আজ আমি আপনাদের এমন একটি গ্রহের কথা বলবো যেখানে কাঁচের বৃষ্টি হয়। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, সেখানে কাঁচের বৃষ্টি হয়। বিজ্ঞানীরা বলেন, মহাবিশ্বে HD 189733b নামে একটি গ্রহ আছে, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটি এতটাই বিপজ্জনক যে সেখানে পানির বৃষ্টির বদলে কাঁচের বৃষ্টি হয়। যদি আপনি সেখানে যান এবং বৃষ্টি শুরু হয়, তাহলে পানির ফোঁটার বদলে কাঁচের টুকরো ঝরবে। এখন প্রশ্ন হলো সেখানে পানির বদলে কাঁচ কেন ঝরে? এর কারণ কী? নাসার বিজ্ঞানীরা বলেন, এ...

চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল ভ্রমণ

ছবি
আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা 🌿 আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমি শারমিন খান  আজ আমি আপনাদের নিয়ে যাচ্ছি আমাদের পরিবারের এক অসাধারণ ভ্রমণের গল্পে— দুটি পাতা একটি কুঁড়ি  নিয়ে  বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী, অপরূপ সৌন্দর্যের শহর শ্রীমঙ্গল 🌱 কিছুদিন আগে, আমরা—আমি, আমার প্রিয় স্বামী-শফিক খান, আমার ছেলে সায়ান খান, মেয়ে সোহা, ছোট ভাই মিশুক, আর আমার ছোট দুই বোন—সবাই মিলে বেরিয়ে পড়ি এক স্মরণীয় ভ্রমণে। রাত ঠিক ১২টায়, নিস্তব্ধ শহর ছেড়ে আমরা গাড়িতে উঠি। আমাদের সাথে ছিল প্রায় ১২০ জন কলিগ—দুটি বাস ভর্তি আনন্দ, হাসি আর উত্তেজনা। গাড়ি ধীরে ধীরে ছুটতে থাকে, আর আমাদের মনে জমতে থাকে এক অজানা আনন্দ… আজকে যেন আমরা রাতের প্রহরী কারণ সারারাত জেগে আছি ঘুম ঘুম চোখে মন মতো ঘুমাতে পারিনি তবে ভ্রমণটা অনেক উপভোগ্য ছিল।  পথিমধ্যে আমরা রাতের খাবার সারি, গাড়ির জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখি—ঘুমন্ত বাংলাদেশ, নিঃশব্দ অথচ সুন্দর। মাঝে মাঝে দেখি রাস্তার ধারে হাটে বাজারে অনেক অফিস আদালতে সামনে এবং বিভিন্ন বাড়ি ঘরের কোনায় লাল নীল অনেক বর্ণের বাতি জ্বলছে যা ছিল মনমুগ্ধকর যা আমার মনকে উত্তীলিত করে...
মানুষ প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। আদিকাল থেকেই মানুষ নিজেকে প্রকৃতির অধিপতি ভাবলেও মূলত সে এই বিশাল ও জটিল বাস্তুসংস্থানের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। বিবর্তনের ধারায় মানুষের মস্তিষ্ক তাকে প্রকৃতির নিয়মগুলো বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রকৃতিকে আমরা ঠিক কতটা জানতে পেরেছি? বিজ্ঞানের এই স্বর্ণযুগে দাঁড়িয়েও উত্তরটি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়; আমরা প্রকৃতির অসীম সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে কেবল কয়েকটি নুড়ি পাথর কুড়িয়েছি মাত্র। মহাবিশ্বের দিকে তাকালে আমাদের সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে প্রকট হয়ে ওঠে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান বলছে, আমরা মহাবিশ্বের যা কিছু দেখি— চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, ছায়াপথ—তা মহাবিশ্বের মোট উপাদানের মাত্র ৫%। বাকি ৯৫% জুড়ে আছে ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জি। এগুলোর অস্তিত্ব আমরা অনুভব করতে পারি, কিন্তু এদের গঠন বা বৈশিষ্ট্য আজও আমাদের কাছে সম্পূর্ণ রহস্য। আমরা এক বিশাল অন্ধকার কক্ষে মোমবাতি হাতে দাঁড়িয়ে আছি, যার আলোয় খুব সামান্য অংশই দৃশ্যমান। মহাকাশে পাড়ি দিলেও আমরা নিজ গ্রহের গভীর সম্পর্কে খুব কমই জানি। পৃথিবীর তিনচতুর্থাংশ জলভাগ হওয়া সত্ত্বেও মহাসমুদ্রের তলদেশের প্রায় ৮০% থ...
পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিলিয়ন (১৫ কোটি) কিলোমিটার। আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লাখ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। আমি আবার বলছি আলো মাত্র এক সেকেন্ডেই ৩ লাখ কিলোমিটার চলে, তাই সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো পৌঁছাতে প্রায় ৫০০ সেকেন্ড (প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড) সময় লাগে। মজার বিষয় হলো, ভয়েজার–১ মহাকাশযানকে ৪৭ বছর আগে নাসার বিজ্ঞানীরা মহাকাশে পাঠিয়েছিলেন। এর গতি প্রায় ঘণ্টায় ৬০ হাজার কিলোমিটার, অর্থাৎ এটি এক ঘণ্টায় ৬০ হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করে। কিন্তু এত দ্রুতগতির পরও ভয়েজার–১ এখনো ততটা দূরত্ব অতিক্রম করতে পারেনি, যতটা আলো মাত্র এক দিনে অতিক্রম করে। এখান থেকেই বোঝা যায়, মহাবিশ্বের সামনে আমরা কতটা অসহায়। পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র আলফা সেন্টরি, যার দূরত্ব প্রায় ৪ আলোকবর্ষ। অর্থাৎ সেখান থেকে আলো পৃথিবীতে আসতে ৪ বছর সময় লাগে। আর আমাদের গ্যালাক্সির ব্যাস প্রায় ১ লাখ আলোকবর্ষ। এর মানে, আলোকে আমাদের গ্যালাক্সির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে প্রায় ১ লাখ বছর লাগে। এর থেকেও আশ্চর্যের বিষয় হলো আলো বা ফোটনকে পুরো মহাবিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে প্রায় ৯৩ বিল...