পোস্টগুলি

আঙ্গুল ফোটালে কি হাড় ক্ষয় হয়?

ছবি
ডা. শেখ সাদীউল ইসলাম 'আঙুল ফুটিও না, হাড় ক্ষয় হয়ে যাবে!' ছোটবেলা থেকে আমরা প্রায় সবাই এই সতর্কবাণী শুনে বড় হয়েছি। কেউ বলেন, জয়েন্টে 'পানি' কমে যাওয়ায় এই শব্দ হয়। কেউ বলেন, হাড় একে অপরের সঙ্গে ঘষা লাগার কারণেই এই আওয়াজ। আবার অনেকে মনে করেন, বারবার আঙুল ফোটালে ভবিষ্যতে আর্থ্রাইটিস হবে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? আসুন, জেনে নেওয়া যাক জয়েন্টের এই রহস্যময় শব্দের আসল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। জয়েন্টের ভেতরে কী থাকে আমাদের শরীরের প্রতিটি সচল জয়েন্ট একটি বিশেষ ক্যাপসুল দ্বারা আবৃত থাকে। এর ভেতরে থাকে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড, যা এক ধরনের স্বচ্ছ ও পিচ্ছিল তরল। এই তরল জয়েন্টকে সহজে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে এবং হাড়ের ঘর্ষণ কমায়। এই তরলের মধ্যে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 'ফট' শব্দটি আসে কোথা থেকে যখন আমরা আঙুল বা অন্য কোনো জয়েন্ট টেনে হঠাৎ প্রসারিত করি, তখন জয়েন্টের ভেতরের চাপ দ্রুত কমে যায়। চাপ কমে যাওয়ার ফলে সাইনোভিয়াল তরলে দ্রবীভূত গ্যাস মুহূর্তের মধ্যে একটি ছোট গ্যাস বুদবুদ (বাবল) তৈরি করে। এই বুদবুদ তৈরির ঘটনাকেই ট্রাইবোনিউক্লিয়েশন বলা হয়...

পৃথিবীর সামনে দিয়ে চাদের অতিক্রম

ছবি
।                    চিত্র: পৃথিবীর সামনে দিয়ে চাদের অতিক্রম  এ ই ছবিতে এমন একটি দৃশ্য রয়েছে, যা পৃথিবীর কোনো মানুষ খালি চোখে কখনো দেখতে পারেনি! প্রথম দেখায় এটি পৃথিবীর সামনে দিয়ে চাঁদের চলে যাওয়ার একটি সাধারণ ছবি মনে হতে পারে। কিন্তু ছবিটির সবচেয়ে বড় রহস্য লুকিয়ে আছে চাঁদের দিকটিতে। এই ছবিটি তুলেছে নাসার EPIC ক্যামেরা, যা DSCOVR উপগ্রহে বসানো রয়েছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লক্ষ কিলোমিটার দূরে, পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী একটি বিশেষ মহাকর্ষীয় ভারসাম্য বিন্দু (L1) থেকে ক্যামেরাটি পৃথিবীর আলোকিত অংশের দিকে সবসময় নজর রাখে। কখনো কখনো চাঁদ পৃথিবী ও ক্যামেরার মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করে। তখনই ধরা পড়ে এমন এক বিরল দৃশ্য—পৃথিবীর সামনে দিয়ে চাঁদের অতিক্রমণ। কিন্তু ছবিটির আসল বিস্ময় হলো, এখানে আমরা চাঁদের যে দিকটি দেখছি, সেটি পৃথিবী থেকে কখনোই দেখা যায় না। কারণ চাঁদ পৃথিবীর সঙ্গে Tidal Lock অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ, চাঁদ নিজের অক্ষে ঘুরতে যে সময় নেয়, পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতেও ঠিক একই সময় লাগে—প্রায় ২৭ দিন। তাই চাঁদের একই দিক স...

আমরা একটি বিরাট Giant Void এর ভিতর আছি

ছবি
আ মাদের মহাবিশ্ব যে বিরাট এক রহস্যে ঘেরা, তার আরেকটি সংযোজন সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের পৃথিবী, সৌরজগত, এমনকি আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ে হয়তো মহাকাশের এক বিরাট শূন্যতার বা Giant Void ভেতরে আটকে আছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং মহাবিশ্ববিদ এই তত্ত্বের পক্ষে মত দিয়েছেন, যা মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আমূল বদলে দেওয়ার মতো। এই তত্ত্বটি মূলত Hubble Tension নামক এক কঠিন সমস্যার সমাধান হিসেবে এসেছে। ১৯২৯ সালে এডউইন হাবল আবিষ্কার করেন যে মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, আমাদের কাছাকাছি মহাবিশ্ব যে হারে প্রসারিত হচ্ছে (হাবল ধ্রুবক), দূরবর্তী প্রাচীন মহাবিশ্বের প্রসারণের হার তার থেকে অনেক ধীর। বিজ্ঞানীরা এই অমিলকে 'হাবল টেনশন' বলে অভিহিত করেন। একে ব্যাখ্যা করার জন্যই সামনে আসে Void Theory। পোর্টসমাউথ ও সেন্ট অ্যান্ড্রুস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সম্প্রতি দাবি করেছেন যে আমাদের স্থানীয় অঞ্চলটি মহাবিশ্বের গড় ঘনত্বের চেয়ে প্রায় ২০% কম ঘনত্ববিশিষ্ট একটি বিশাল শূন্য অঞ্চলে অবস্থিত। এই শূন্যতা...

পৃথিবী না বৃহস্পতি বিশাল?

ছবি
আ মরা প্রায়ই আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবি, পৃথিবীই যেন বিশাল। অথচ মহাবিশ্বের বাস্তবতা আমাদের সেই ধারণাকে মুহূর্তেই ভেঙে দেয়। বৃহস্পতি এমন এক দৈত্যাকার গ্রহ, যার ভেতরে প্রায় ১,৩০০টিরও বেশি পৃথিবী স্থান পেতে পারে। তবুও, এই বৃহস্পতিও সূর্যের তুলনায় ক্ষুদ্র, আর সূর্য আবার অসংখ্য নক্ষত্রের ভিড়ে একটি সাধারণ নক্ষত্র মাত্র। মহাবিশ্ব আমাদের প্রতিদিন একটি সত্য শেখায়— আমরা যতই বড় ভাবি নিজেকে, প্রকৃতির সামনে আমরা ততটাই ক্ষুদ্র। কিন্তু সেই ক্ষুদ্র অস্তিত্ব নিয়েই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জানার ইচ্ছা। আর সেই কৌতূহলই আমাদের পৃথিবী থেকে মহাকাশের অসীম বিস্ময়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। মহাবিশ্বের বিশালতা শুধু চোখকে নয়, মনকেও বিনয়ী করে তোলে। 🌍 আপনি কি আগে জানতেন, বৃহস্পতির ভেতরে প্রায় ১,৩০০টিরও বেশি পৃথিবী ধরে যেতে পারে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।  Collected  #AstrionAtlas #মহাবিশ্ব#Space #Jupiter #Astronomy #Cosmos #Science #SpaceFacts #Universe #SpaceExploration #বাংলাবিজ্ঞান#জ্যোতির্বিজ্ঞান #Knowledge #DidYouKnow #ScienceLovers #CosmicTruth #ExploreTheUniverse #SpaceEducation

ব্ল্যাক হোল কোনো গর্ত নয়, এটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে ঘন ‘ইনফরমেশন ডিস্ট্রিক্ট’!

ছবি
Black holes are not holes; They are the densest ‘Information Districts’ in the universe! আ মরা যখন ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের ছবি দেখি, আমাদের মনে হয় এটি বুঝি মহাবিশ্বের বুকে তৈরি হওয়া বিশাল কোনো অন্ধকার কুয়া বা অসীম সুড়ঙ্গ, যার ভেতর একবার ঢুকলে আর কোনোদিন বের হওয়া যায় না। কিন্তু আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, বিশেষ করে ইনফরমেশন ফিজিক্স আমাদের এই চেনা ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছে। বিজ্ঞানের নিখুঁত সমীকরণগুলো আজ দেখাচ্ছে যে, ব্ল্যাক হোল আক্ষরিক অর্থেই কোনো ফাঁপা সুরঙ্গ বা গর্ত নয়; বরং  এটি হলো এই পুরো মহাবিশ্বের সবচেয়ে আদিম এবং সবচেয়ে ঘন তথ্যের এক মহাজাগতিক ডেটা হাব! লজিকটি কী? সূর্যের ভরের চেয়ে অন্তত ২০-৩০ গুন বেশি একটি নক্ষত্র যখন তার জীবনের শেষ সময়ে এসে নিজের সমস্ত জ্বালানি হারিয়ে ফেলে, তখন সুপারনোভা বিস্ফোরণে অবশিষ্টাংশ তার নিজস্ব মহাকর্ষ বলের প্রচণ্ড টানে নক্ষত্রটি ভেতরের দিকে সংকুচিত হতে শুরু করে। সঙ্কুচিত হতে হতে একপর্যায়ে এটি এত ক্ষুদ্র এবং অতি-ঘন একটি বিন্দুতে পরিণত হয় যে, তার চারপাশের স্থান-কাল (Space-time) মারাত্মকভাবে বেঁকে যায়। পদার্থবিজ্ঞানের লজিক বলে, ব্ল্যাক হোলের যদি এ...

যেদিন সূর্যের প্রতিটি ফোটন হবে মানুষের সম্পদ

ছবি
টাইপ-২ সভ্যতা: যেদিন সূর্যের প্রতিটি ফোটন হবে মানুষের সম্পদ! ( Type-II Civilization: The Day Every Photon of the Sun Becomes Human Wealth!) আ মরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, সূর্য প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ শক্তি বিলিয়ে দিচ্ছে, আমরা তার কতটুকু কাজে লাগাতে পারছি? সত্যি বলতে, আমরা কেবল তার এক অতি সামান্য অংশ ব্যবহার করছি, আর বাকি পুরোটা মহাশূন্যের অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। এই যে হারানো শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করে নিজেদের সভ্যতা বদলে ফেলার এক অসাধ্য সাধন করার নামই হলো টাইপ-২ সভ্যতা। সভ্যতার অগ্রগতির এই বৈজ্ঞানিক মাপকাঠিটি ১৯৬৪ সালে বিশ্বকে প্রথম জানিয়েছিলেন সোভিয়েত জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাই কারদাশেভ। তার নাম অনুসারে এটি 'কারদাশেভ স্কেল' নামে অভিহিত করা হয়।  কারদাশেভ স্কেল অনুযায়ী, মূলত সভ্যতাকে তিনটি প্রধান ধাপে ভাগ করা হয়। টাইপ-১ সভ্যতা হলো সেই সভ্যতা যারা তাদের গ্রহের পুরো শক্তি ব্যবহার করতে পারে। টাইপ-২ সভ্যতা হলো, যারা সরাসরি তাদের নিজ নক্ষত্রের বিকিরণ করা প্রায় পুরো শক্তির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে এবং টাইপ-৩ সভ্যতা হলো, যারা পুরো ছায়াপথের শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা রাখে। মানুষ হিসেবে আমরা বর...

মহাবিশ্বের আদিযুগের গ্যালাক্সি ঘূর্ণনহীন – দেখে চমকে গেলেন বিজ্ঞানীরা!

ছবি
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ আবারও মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে নাড়িয়ে দিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমন এক বিশাল গ্যালাক্সির সন্ধান পেয়েছেন, যা সৃষ্টি হয়েছিল বিগ ব্যাংয়ের মাত্র দুই বিলিয়ন বছরের মধ্যেই—কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, গ্যালাক্সিটি একদমই ঘুরছে না! সাধারণত নবীন গ্যালাক্সিগুলোতে প্রচণ্ড ঘূর্ণন দেখা যায়, কারণ গ্যাস, ধূলিকণা ও মহাকর্ষের প্রভাবে তারা জন্মের সময় থেকেই ঘুরতে শুরু করে। কিন্তু XMM-VID1-2075 নামের এই গ্যালাক্সিটি যেন সেই চেনা নিয়মই মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এত প্রাচীন সময়ে এমন “slow rotator” বা ধীর/অঘূর্ণনশীল গ্যালাক্সির অস্তিত্ব বর্তমান গ্যালাক্সি-গঠনের তত্ত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এই রহস্যময় গ্যালাক্সিটি শুধু ঘূর্ণনহীনই নয়, এটি অবিশ্বাস্য রকমের বিশালও। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, তখনকার তরুণ মহাবিশ্বেই এর ভর আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ছিল। আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হলো—এটি নতুন নক্ষত্র তৈরি করাও প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের অতিসংবেদনশীল পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা গ্যালাক্সিটির ভেতরের নক্ষত্রগুলোর চলাচল বিশ্লেষণ ক...