পোস্টগুলি

মহাবিশ্বের আদিযুগের গ্যালাক্সি ঘূর্ণনহীন – দেখে চমকে গেলেন বিজ্ঞানীরা!

ছবি
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ আবারও মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে নাড়িয়ে দিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমন এক বিশাল গ্যালাক্সির সন্ধান পেয়েছেন, যা সৃষ্টি হয়েছিল বিগ ব্যাংয়ের মাত্র দুই বিলিয়ন বছরের মধ্যেই—কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, গ্যালাক্সিটি একদমই ঘুরছে না! সাধারণত নবীন গ্যালাক্সিগুলোতে প্রচণ্ড ঘূর্ণন দেখা যায়, কারণ গ্যাস, ধূলিকণা ও মহাকর্ষের প্রভাবে তারা জন্মের সময় থেকেই ঘুরতে শুরু করে। কিন্তু XMM-VID1-2075 নামের এই গ্যালাক্সিটি যেন সেই চেনা নিয়মই মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এত প্রাচীন সময়ে এমন “slow rotator” বা ধীর/অঘূর্ণনশীল গ্যালাক্সির অস্তিত্ব বর্তমান গ্যালাক্সি-গঠনের তত্ত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এই রহস্যময় গ্যালাক্সিটি শুধু ঘূর্ণনহীনই নয়, এটি অবিশ্বাস্য রকমের বিশালও। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, তখনকার তরুণ মহাবিশ্বেই এর ভর আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ছিল। আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হলো—এটি নতুন নক্ষত্র তৈরি করাও প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের অতিসংবেদনশীল পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা গ্যালাক্সিটির ভেতরের নক্ষত্রগুলোর চলাচল বিশ্লেষণ ক...

যে গ্রহে কাঁচের বৃষ্টি হয়। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, সেখানে কাঁচের বৃষ্টি হয়।

ছবি
আমি মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে খুব ভালোবাসি। আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন‌ যদি একজন মানুষ এক সপ্তাহ খাবার ও পানি না পায়, তাহলে সে মারা যেতে পারে, কারণ এগুলো মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। কিন্তু যদি আমি নিজের কথা বলি, তাহলে আমি খাবার ও পানির পাশাপাশি জ্যোতির্বিজ্ঞান ছাড়াও থাকতে পারি না। কারণ এটি আমার বেঁচে থাকার একটি কারণ। যখন নাসা থেকে মহাবিশ্ব সম্পর্কে কোনো আপডেট আসে, তখন আমি খাওয়া-দাওয়া বা খুব জরুরি কাজও ছেড়ে দিয়ে সেই লেখা শেষ পর্যন্ত পড়ি, কারণ সেই সময় আমার ক্ষুধা যেন মিটে যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞান এক ধরনের নেশা, আর এই নেশা সব নেশার চেয়েও শক্তিশালী। আজ আমি আপনাদের এমন একটি গ্রহের কথা বলবো যেখানে কাঁচের বৃষ্টি হয়। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, সেখানে কাঁচের বৃষ্টি হয়। বিজ্ঞানীরা বলেন, মহাবিশ্বে HD 189733b নামে একটি গ্রহ আছে, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটি এতটাই বিপজ্জনক যে সেখানে পানির বৃষ্টির বদলে কাঁচের বৃষ্টি হয়। যদি আপনি সেখানে যান এবং বৃষ্টি শুরু হয়, তাহলে পানির ফোঁটার বদলে কাঁচের টুকরো ঝরবে। এখন প্রশ্ন হলো সেখানে পানির বদলে কাঁচ কেন ঝরে? এর কারণ কী? নাসার বিজ্ঞানীরা বলেন, এ...

চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল ভ্রমণ

ছবি
আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা 🌿 আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমি শারমিন খান  আজ আমি আপনাদের নিয়ে যাচ্ছি আমাদের পরিবারের এক অসাধারণ ভ্রমণের গল্পে— দুটি পাতা একটি কুঁড়ি  নিয়ে  বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী, অপরূপ সৌন্দর্যের শহর শ্রীমঙ্গল 🌱 কিছুদিন আগে, আমরা—আমি, আমার প্রিয় স্বামী-শফিক খান, আমার ছেলে সায়ান খান, মেয়ে সোহা, ছোট ভাই মিশুক, আর আমার ছোট দুই বোন—সবাই মিলে বেরিয়ে পড়ি এক স্মরণীয় ভ্রমণে। রাত ঠিক ১২টায়, নিস্তব্ধ শহর ছেড়ে আমরা গাড়িতে উঠি। আমাদের সাথে ছিল প্রায় ১২০ জন কলিগ—দুটি বাস ভর্তি আনন্দ, হাসি আর উত্তেজনা। গাড়ি ধীরে ধীরে ছুটতে থাকে, আর আমাদের মনে জমতে থাকে এক অজানা আনন্দ… আজকে যেন আমরা রাতের প্রহরী কারণ সারারাত জেগে আছি ঘুম ঘুম চোখে মন মতো ঘুমাতে পারিনি তবে ভ্রমণটা অনেক উপভোগ্য ছিল।  পথিমধ্যে আমরা রাতের খাবার সারি, গাড়ির জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখি—ঘুমন্ত বাংলাদেশ, নিঃশব্দ অথচ সুন্দর। মাঝে মাঝে দেখি রাস্তার ধারে হাটে বাজারে অনেক অফিস আদালতে সামনে এবং বিভিন্ন বাড়ি ঘরের কোনায় লাল নীল অনেক বর্ণের বাতি জ্বলছে যা ছিল মনমুগ্ধকর যা আমার মনকে উত্তীলিত করে...
মানুষ প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। আদিকাল থেকেই মানুষ নিজেকে প্রকৃতির অধিপতি ভাবলেও মূলত সে এই বিশাল ও জটিল বাস্তুসংস্থানের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। বিবর্তনের ধারায় মানুষের মস্তিষ্ক তাকে প্রকৃতির নিয়মগুলো বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রকৃতিকে আমরা ঠিক কতটা জানতে পেরেছি? বিজ্ঞানের এই স্বর্ণযুগে দাঁড়িয়েও উত্তরটি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়; আমরা প্রকৃতির অসীম সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে কেবল কয়েকটি নুড়ি পাথর কুড়িয়েছি মাত্র। মহাবিশ্বের দিকে তাকালে আমাদের সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে প্রকট হয়ে ওঠে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান বলছে, আমরা মহাবিশ্বের যা কিছু দেখি— চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, ছায়াপথ—তা মহাবিশ্বের মোট উপাদানের মাত্র ৫%। বাকি ৯৫% জুড়ে আছে ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জি। এগুলোর অস্তিত্ব আমরা অনুভব করতে পারি, কিন্তু এদের গঠন বা বৈশিষ্ট্য আজও আমাদের কাছে সম্পূর্ণ রহস্য। আমরা এক বিশাল অন্ধকার কক্ষে মোমবাতি হাতে দাঁড়িয়ে আছি, যার আলোয় খুব সামান্য অংশই দৃশ্যমান। মহাকাশে পাড়ি দিলেও আমরা নিজ গ্রহের গভীর সম্পর্কে খুব কমই জানি। পৃথিবীর তিনচতুর্থাংশ জলভাগ হওয়া সত্ত্বেও মহাসমুদ্রের তলদেশের প্রায় ৮০% থ...
পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিলিয়ন (১৫ কোটি) কিলোমিটার। আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লাখ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। আমি আবার বলছি আলো মাত্র এক সেকেন্ডেই ৩ লাখ কিলোমিটার চলে, তাই সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো পৌঁছাতে প্রায় ৫০০ সেকেন্ড (প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড) সময় লাগে। মজার বিষয় হলো, ভয়েজার–১ মহাকাশযানকে ৪৭ বছর আগে নাসার বিজ্ঞানীরা মহাকাশে পাঠিয়েছিলেন। এর গতি প্রায় ঘণ্টায় ৬০ হাজার কিলোমিটার, অর্থাৎ এটি এক ঘণ্টায় ৬০ হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করে। কিন্তু এত দ্রুতগতির পরও ভয়েজার–১ এখনো ততটা দূরত্ব অতিক্রম করতে পারেনি, যতটা আলো মাত্র এক দিনে অতিক্রম করে। এখান থেকেই বোঝা যায়, মহাবিশ্বের সামনে আমরা কতটা অসহায়। পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র আলফা সেন্টরি, যার দূরত্ব প্রায় ৪ আলোকবর্ষ। অর্থাৎ সেখান থেকে আলো পৃথিবীতে আসতে ৪ বছর সময় লাগে। আর আমাদের গ্যালাক্সির ব্যাস প্রায় ১ লাখ আলোকবর্ষ। এর মানে, আলোকে আমাদের গ্যালাক্সির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে প্রায় ১ লাখ বছর লাগে। এর থেকেও আশ্চর্যের বিষয় হলো আলো বা ফোটনকে পুরো মহাবিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে প্রায় ৯৩ বিল...

হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম কীভাবে তৈরি হয়

ছবি
হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম কীভাবে তৈরি হয় তারার ভেতরে যে প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম তৈরি হয় — সেটাই মহাবিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া ছাড়া তারা জ্বলত না, সূর্য থেকে আলো আসত না, পৃথিবীতে প্রাণ থাকত না। প্রক্রিয়াটার নাম "প্রোটন-প্রোটন চেইন"। সূর্যের মতো মাঝারি তারায় এই পদ্ধতিতেই হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম তৈরি হয়। ধাপে ধাপে বোঝানো যাক। হাইড্রোজেন পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে একটি প্রোটন। তারার কেন্দ্রে তাপমাত্রা প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই অবিশ্বাস্য তাপমাত্রায় দুটো প্রোটন এতটাই দ্রুত ছোটে যে একে অপরের কাছে পৌঁছে মিলে যায়। স্বাভাবিকভাবে একই ধরনের চার্জের কণা একে অপরকে ঠেলে দেয় — কিন্তু এত বেশি চাপ আর তাপে "কোয়ান্টাম টানেলিং" এর মাধ্যমে তারা বাধা পেরিয়ে মিলে যায়। দুটো প্রোটন মিললে তৈরি হয় ডিউটেরিয়াম — হাইড্রোজেনের একটি ভারী রূপ। এই প্রক্রিয়ায় একটি পজিট্রন আর একটি নিউট্রিনো বের হয়। তারপর সেই ডিউটেরিয়ামের সাথে আরেকটি প্রোটন মিলে তৈরি হয় হিলিয়াম-৩। শেষে দুটো হিলিয়াম-৩ মিলে তৈরি হয় একটি পূর্ণ হিলিয়াম-৪ ...

সৌরজগতের সীমানা কোথায়

ছবি
সৌরজগতের সীমানা কোথায় শেষ সৌরজগতের সীমানা ঠিক কোথায় — এই প্রশ্নের উত্তর ভাবলেই মাথা ঘুরে যায়। কারণ সীমানাটা এক জায়গায় হঠাৎ শেষ হয় না — এটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের বেশ কয়েকটি সীমানার কথা বলেন। প্রথম সীমানা হলো "হেলিওপজ"। সূর্য থেকে প্রতিনিয়ত সোলার উইন্ড বের হয় — ছোট ছোট কণার স্রোত। এই স্রোত একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে গিয়ে মহাকাশের বাইরের পদার্থের চাপে থেমে যায়। এই থামার জায়গাটাই হেলিওপজ। ভয়েজার-১ ২০১২ সালে এই সীমানা পেরিয়ে "ইন্টারস্টেলার স্পেস" বা তারার মাঝের মহাকাশে প্রবেশ করেছে। কিন্তু হেলিওপজই শেষ নয়। এর বাইরে আছে কুইপার বেল্ট, আর তারও বাইরে আছে বিশাল ওর্ট ক্লাউড। ওর্ট ক্লাউড সূর্য থেকে প্রায় ১ লাখ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বস্তুগুলো এখনো সূর্যের মহাকর্ষের আওতায় আছে — তাই এগুলোকে সৌরজগতের অংশ বলা হয়। তাহলে আসল সীমানা কোথায়? যেখানে সূর্যের মহাকর্ষ শক্তি শেষ হয় — সেটাই সৌরজগতের প্রকৃত সীমানা। এই হিসেবে সৌরজগত প্রায় ১ থেকে ২ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ভয়েজার-১ ১৯৭৭ সালে যাত্রা শুরু কর...