আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা 🌿
আশা করি সবাই ভালো আছেন।
আমি শারমিন খান
আজ আমি আপনাদের নিয়ে যাচ্ছি আমাদের পরিবারের এক অসাধারণ ভ্রমণের গল্পে—
দুটি পাতা একটি কুঁড়ি নিয়ে
বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী, অপরূপ সৌন্দর্যের শহর শ্রীমঙ্গল 🌱
কিছুদিন আগে, আমরা—আমি, আমার প্রিয় স্বামী-শফিক খান, আমার ছেলে সায়ান খান, মেয়ে সোহা, ছোট ভাই মিশুক, আর আমার ছোট দুই বোন—সবাই মিলে বেরিয়ে পড়ি এক স্মরণীয় ভ্রমণে।
রাত ঠিক ১২টায়, নিস্তব্ধ শহর ছেড়ে আমরা গাড়িতে উঠি।
আমাদের সাথে ছিল প্রায় ১২০ জন কলিগ—দুটি বাস ভর্তি আনন্দ, হাসি আর উত্তেজনা।
গাড়ি ধীরে ধীরে ছুটতে থাকে, আর আমাদের মনে জমতে থাকে এক অজানা আনন্দ…
আজকে যেন আমরা রাতের প্রহরী কারণ সারারাত জেগে আছি ঘুম ঘুম চোখে মন মতো ঘুমাতে পারিনি তবে ভ্রমণটা অনেক উপভোগ্য ছিল।
পথিমধ্যে আমরা রাতের খাবার সারি, গাড়ির জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখি—ঘুমন্ত বাংলাদেশ, নিঃশব্দ অথচ সুন্দর।
মাঝে মাঝে দেখি রাস্তার ধারে হাটে বাজারে অনেক অফিস আদালতে সামনে এবং বিভিন্ন বাড়ি ঘরের কোনায় লাল নীল অনেক বর্ণের বাতি জ্বলছে যা ছিল মনমুগ্ধকর যা আমার মনকে উত্তীলিত করে ফেলেছিল আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।
ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হবে এমন সময় বিভিন্ন মসজিদ থেকে বেশি হল আযানের সুমধুর ধ্বনি ।
এমন সময় পাশের এক মসজিদের সামনে আমাদের গাড়িটি থামানো হলো গাড়ি থেকে অনেকে নেমে গেল নামাজের উদ্দেশ্যে, অনেকে আবার গেল ফ্রেশ হতে বা যার যার ছোট কাজ সেরে ফেলতে ।
প্রায় ৭টার দিকে আমরা পৌঁছে যাই শ্রীমঙ্গল এ।
চারপাশে শুধু সবুজ আর সবুজ…
চা বাগানের হালকা কুয়াশা, পাখির ডাক—মনে হচ্ছিল যেন প্রকৃতি নিজেই আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে 🌿
তারপর আমরা যাই বিখ্যাত পানসী রেস্তোরাঁ তে।
গরম গরম নাস্তা, চা আর সবার সাথে গল্প—এই মুহূর্তগুলো সত্যিই অন্যরকম ছিল।
ভ্রমণের শুরুতেই এমন সুন্দর একটা আয়োজন—দিনটাকে আরও স্পেশাল করে তুলেছিল।
🌱 চা বাগানে হারিয়ে যাওয়া
নাস্তা শেষে আমরা বেরিয়ে পড়ি আমাদের মূল গন্তব্যে—শ্রীমঙ্গলের বিখ্যাত চা বাগানগুলোতে।
আমরা চা বাগানের চারপাশের লেকে অনেকক্ষণ ঘুরাঘুরি করতে ছিলাম সবাই মিলে সেলফি তোলারাম, যার যার মত ছবি তুলে রাখলাম যা ভবিষ্যতে স্মৃতি হয়ে থাকবে অম্লান
আমরা অনেক, অনেক ছবি তুললাম, প্রচুর দৃশ্য ধারণ করলাম যা স্মৃতি হয়ে আছে আমার মনে।
তারপরে এক সময় আমরা চা বাগানের পাহাড়ে উঠতে শুরু করলাম।
পাহাড়ে ওঠা অনেক কষ্টের খুব সাবধানে সাথে পাহাড়ে উঠতে হয় আমরা সবাই পাহাড়ের উপরে ঢিভিতে উঠে গেলাম দেখলাম বিশাল বড় এলাকা নিয়ে বাগান গুলো সত্যিই অসাধারণ দৃশ্য ছিল।
চারদিকে শুধু সবুজের সমারোহ…
চা গাছের সারি যেন একেকটা জীবন্ত চিত্রকর্ম।
আমরা হেঁটে বেড়াই, ছবি তুলি, আর প্রকৃতির সাথে মিশে যাই।
মনে হচ্ছিল—শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, এক শান্তির জগতে চলে এসেছি।
এভাবে ঘুরতে ঘুরতে একসময় দুপুর গড়িয়ে গেল আমরা সবাই নিচে নেমে এলাম, এসে লেবুর শরবত ডাব নারিকেল এগুলা খেয়ে একটু বিশ্রাম নিলাম।
🌳 লাউয়াছড়া ইকোপার্ক – প্রকৃতির গভীরে
দুপুরের দিকে আমরা যাই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এ।
ঘন জঙ্গল, উঁচু উঁচু গাছ, আর পাখির কিচিরমিচির—
এ যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত জাদুঘর।
আমরা অনেকক্ষণ ধরে জঙ্গলের ভেতরে হাঁটি,
প্রতিটি মুহূর্তে নতুন কিছু আবিষ্কার করি।
জানা অজানা অনেক লম্বা লম্বা গাছের শাড়ি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ যা আগে কখনো দেখা হয়নি । অনেক পুরনো আমলের স্মৃতি ধরে রেখেছে তা দেখতে লাগলাম । এই উদ্যানের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে একটি রেল লাইন যা ব্রিটিশ আমলের তৈরি । আজো ব্রিটিশদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এখনো।
দিনটি ছিল শুক্রবার।
তাই আমরা লাউয়াছড়ার ভেতরে অবস্থিত ছোট্ট সুন্দর একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করি।
সবুজে ঘেরা সেই পরিবেশে নামাজ পড়ার অনুভূতি—
ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন…
মনে হচ্ছিল, প্রকৃতির মাঝেই আল্লাহর নৈকট্য আরও বেশি অনুভব করছি 🤍
এভাবেই হাসি, আনন্দ আর প্রশান্তিতে ভরে ওঠে আমাদের পুরো দিনটি।
প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি দৃশ্য—আমাদের হৃদয়ে গেঁথে যায়।
দুপুরের দিকে ফিরে আবার আমরা সেই বিখ্যাত পানসি রেস্তোরাতে আমাদের দুপুরের ভোজন শেষ করি, তারপর আমরা শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো পরিদর্শন করি এবং সেখান থেকে আমাদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করি।
বিকালে চলে আমাদের পুরস্কার প্রতিযোগিতা এ প্রতিযোগিতা আমরা সবাই অংশগ্রহণ করেছিলাম । গিফট টোকেন কিনেছিলাম, আমরা নিয়েছিলাম প্রায় ১৬ টির মত টোকেন। এখান থেকে আমরা চার টিকিটে পুরষ্কার জিতে যাই যা ছিল বেশ স্মরণীয় মুহূর্ত।
সন্ধ্যার দিকে মাগরিবের নামাজ আদায় করে আমরা চা কফি ফুচকা বিভিন্ন ধরনের মজাদার আইটেম খাই এবং আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা তৈরি করতে থাকি
অবশেষে আমরা চলে যাই শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মনিপুরী বাজারে। বাজার থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র ক্রয় করি যা ছিল মনোমুগ্ধকর, এর মধ্যে ছিল মনিপুরী চাদর, গামছা , মাফলার এবং মণিপুরীদের হাতে বানানো স্কুল ব্যাগ বাচ্চাদের জন্য। এভাবেই আমাদের সন্ধ্যাটা কেটে যায় এবং ঠিক আগের মত রাত দশটার দিকে আমরা আমাদের গাড়িতে চড়ে বসি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা করি।
ফিরতি পথে আমরা সবাই গাড়ির ভিতরে যে যার মত করে গান গাইতেছিলাম কেউ নাস্তে ছিল, কেউ গান গাইতেছিল, কেউ মজার মজার গল্প, কবিতা, কৌতুক আবৃত্তি করতে ছিল । মানে অন্যরকম একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছিল গাড়ির ভিতরে, যা বলে বুঝানো সম্ভব নয়।
তখন প্রায় রাতে বারোটা বাজে, আমরা এসে পৌঁছেছি ব্রাহ্মণবাড়িয়া । তখন আমরা বাস থেকে নেমে আমাদের রাতের খাবার সেরে নেই ।
গাড়ি আবার আগের মত চলতে শুরু করে সেই নতুন উদ্যমে আমরা প্রায় রাত দুইটার দিকে দেবিদ্দার এসে পৌঁছি।
বন্ধুরা,
এই ছিল আমাদের শ্রীমঙ্গল ভ্রমণের ছোট্ট গল্প—
কিন্তু বিশ্বাস করুন, এই অভিজ্ঞতা ছিল অনেক বড়, অনেক গভীর।
আপনারা যদি কখনো সুযোগ পান,
অবশ্যই একবার শ্রীমঙ্গল ঘুরে আসবেন।
খানস ভিডিও ক্রিয়েশন
আপনাদের জন্য এরকম ভিডিও তৈরি করে থাকে
পাশে থাকতে আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো দিন ও ইউটিউব চ্যানেলেটি সাবস্ক্রাইব করুন।
ভিডিওটি ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করবেন,
আর এমন আরও সুন্দর ভ্রমণের গল্প পেতে আমাদের সাথে থাকুন 🌿
আল্লাহ হাফেজ
মন্তব্যসমূহ