পৃথিবীর সামনে দিয়ে চাদের অতিক্রম

।                    চিত্র: পৃথিবীর সামনে দিয়ে চাদের অতিক্রম 
ই ছবিতে এমন একটি দৃশ্য রয়েছে, যা পৃথিবীর কোনো মানুষ খালি চোখে কখনো দেখতে পারেনি!

প্রথম দেখায় এটি পৃথিবীর সামনে দিয়ে চাঁদের চলে যাওয়ার একটি সাধারণ ছবি মনে হতে পারে। কিন্তু ছবিটির সবচেয়ে বড় রহস্য লুকিয়ে আছে চাঁদের দিকটিতে।

এই ছবিটি তুলেছে নাসার EPIC ক্যামেরা, যা DSCOVR উপগ্রহে বসানো রয়েছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লক্ষ কিলোমিটার দূরে, পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী একটি বিশেষ মহাকর্ষীয় ভারসাম্য বিন্দু (L1) থেকে ক্যামেরাটি পৃথিবীর আলোকিত অংশের দিকে সবসময় নজর রাখে।

কখনো কখনো চাঁদ পৃথিবী ও ক্যামেরার মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করে। তখনই ধরা পড়ে এমন এক বিরল দৃশ্য—পৃথিবীর সামনে দিয়ে চাঁদের অতিক্রমণ।

কিন্তু ছবিটির আসল বিস্ময় হলো, এখানে আমরা চাঁদের যে দিকটি দেখছি, সেটি পৃথিবী থেকে কখনোই দেখা যায় না। কারণ চাঁদ পৃথিবীর সঙ্গে Tidal Lock অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ, চাঁদ নিজের অক্ষে ঘুরতে যে সময় নেয়, পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতেও ঠিক একই সময় লাগে—প্রায় ২৭ দিন। তাই চাঁদের একই দিক সবসময় পৃথিবীর দিকে মুখ করে থাকে, আর অপর দিকটি চিরকাল আমাদের চোখের আড়ালেই থেকে যায়।

১৯৫৯ সালের আগে মানবজাতির কেউই জানত না চাঁদের ওই অদেখা অংশটি দেখতে কেমন। প্রথমবার সেটির ছবি তোলে সোভিয়েত মহাকাশযান Luna 3।

আরও অবাক করার বিষয় হলো, চাঁদের এই অদেখা অংশটি আমাদের পরিচিত দিকের মতো নয়। এখানে কালো লাভার সমতল প্রায় নেই বললেই চলে; বরং এটি অসংখ্য গর্তে ভরা, পাথুরে এবং অনেক বেশি উজ্জ্বল। কেন দুই দিক এত আলাদা, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও গবেষণা করছেন।

✨ এই একটি ছবিতেই একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর সম্পূর্ণ আলোকিত মুখ এবং চাঁদের সম্পূর্ণ আলোকিত অদেখা দিক—এমন দৃশ্য পৃথিবীর মাটিতে দাঁড়িয়ে কখনোই দেখা সম্ভব নয়।

🌌 মহাবিশ্ব আমাদের প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়, পরিচিত জিনিসগুলোর মধ্যেও কত অজানা রহস্য লুকিয়ে আছে!

Collected 

#NASA #Moon #FarSideOfTheMoon #Earth #DSCOVR #EPIC #Space #Astronomy #Science #MoonTransit #Universe #SpacePhotography #মহাকাশ #চাঁদ #পৃথিবী #বিজ্ঞান #মহাবিশ্ব #নাসা #জ্যোতির্বিজ্ঞান

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সৌরজগতের সীমানা কোথায়

The most beautiful rainy season in Bangladesh

মহাবিশ্ব শুধু দূরের কোনো অজানা জগত নয়, বরং এটি আমাদের নিজেরই বিস্তৃত পরিচয়।