আপনি-আমি মহাবিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ



    পনার শরীরের সবচেয়ে পুরনো অংশটার বয়স কত? আপনি হয়তো বলবেন, "আমার তো বয়স ৩০ কি ৪০ বছর হবে!" 

কিন্তু আমি বলছি, আপনার বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙুলের একটা লোহার পরমাণুর বয়স প্রায় ৭০০ কোটি বছর!

ইতিহাস? এক সময় ছিল যখন কিছুই ছিল না। শুধু অন্ধকার আর উত্তপ্ত গ্যাসের এক বিশাল সমুদ্র। এই বিশৃঙ্খলার মাঝে একদিন জন্ম নিল প্রথম আলো, প্রথম নক্ষত্র।

এই নক্ষত্রগুলো কিন্তু শুধু জ্বলেনি। তারা ছিল মৌলের এক বিশাল কারখানা। তাদের বুকে প্রচণ্ড চাপ আর তাপে তৈরি হতে লাগলো সোনা, রূপা, আমাদের হাড়ের ক্যালসিয়াম আর শ্বাস নেওয়ার অক্সিজেন। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে তারা জ্বলে পোড়ে নিজেরাই তৈরি করল আমাদের শরীরের ইটগুলো।

তারপর একদিন সেই নক্ষত্রগুলো যখন বুড়ো হয়ে গেল, তখন তারা বিশাল এক বিস্ফোরণে নিজেদের শেষ করে দিল। তাদের মৃত্যুর এই আগুনে ছড়িয়ে পড়ল সেই সব উপাদান। ছড়িয়ে পড়ল সেই ধুলো, গ্যাস আর কারখানায় তৈরি করা সব মালামাল। আর সেই ধুলো থেকেই একদিন জমাট বেঁধে জন্ম নিল আমাদের পৃথিবী।

আর আজ আমি আর আপনি দাঁড়িয়ে আছি। মানে, ঠিক দাঁড়িয়ে নয় বরং সেই মৃত নক্ষত্রদের ধুলো নিয়ে আমরা হাঁটছি। যখন আপনি শ্বাস নেন, আপনার ফুসফুসে ভরে ওঠা অক্সিজেনটা তৈরি হয়েছিল কোন এক দূর নক্ষত্রের বুকে। আপনার রক্তে লোহার পরমাণুগুলো নাচছে, যেগুলো জন্মেছিল সেই প্রলয়ংকরী বিস্ফোরণের আগুনে।

আমাদের শরীরের ভেতরটা আসলে একটু ক্ষুদ্র মহাবিশ্ক। যেমন মহাকর্ষ নক্ষত্রদের এক জায়গায় বেঁধে রাখে, তেমনি অদৃশ্য শক্তি আমাদের শরীরের কোটি কোটি পরমাণুকে বেঁধে রেখেছে 'আমি' করে। আর ঠিক যেমন মহাকাশে নতুন তারা জন্মায় আর পুরোনোরা মারা যায়, আমাদের শরীরের কোষগুলোও প্রতিনিয়ত মরছে আর জন্মাচ্ছে। আমরা মহাবিশ্বের সেই একই পুরোনো গল্প বারবার নতুন করে লিখছি।

মনে রাখবেন আপনি শুধু নিচ থেকে তারাদের দেখছেন না। আপনার ভেতরের লোহাটা, আপনার ভেতরের অক্সিজেন, তারাও একসময় সেখানেই ছিল। আমরা এই বিশাল মহাবিশ্বেরই একটা অংশ।

আপনার শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোন উপাদানটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করে? আর যদি সত্যিই আমরা স্টারডাস্ট হয়ে থাকি, তাহলে কি আমরা আমাদের ভাগ্যও নিজেরাই লিখতে পারি? মন্তব্যে জানান! 👇

(সংগ্রহীত)

#stardust #astrobiology #astrophysics #spacescience

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হরি দল ও অক্ষরজ্ঞানহীন দরিদ্র কৃষক হরিপদ কাপালী

"বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল"

ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়ার চিকিৎসায় অগ্রগতি - আত্মহত্যার রোগ