ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের শক্ত প্রমাণ পেলেন বিজ্ঞানীরা
লিঙ্ক পান
Facebook
X
Pinterest
ইমেল
অন্যান্য অ্যাপ
-
পৃথিবীর বাইরেও প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে—এবার সেই সম্ভাবনার সবচেয়ে শক্তিশালী ইঙ্গিত দিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে ১২৪ আলোকবর্ষ দূরের এক গ্রহের বায়ুমণ্ডলে এমন রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত হয়েছে; যা পৃথিবীতে শুধুমাত্র জীবিত প্রাণীর মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়। এই আবিষ্কারে বৈজ্ঞানিক মহলে একদিকে যেমন উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তেমনি রয়েছে সাবধানতা ও গভীর বিশ্লেষণের আহ্বানও।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই অভাবনীয় আবিষ্কারটি করা হয়।
গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক নিক্কু মাধুসূদন বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো এমন একটি ভিনগ্রহের সন্ধান পেলাম, যেখানে প্রাণের উপস্থিতি সম্ভব হতে পারে। এটি এক যুগান্তকারী মুহূর্ত।’
বাইরেও প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে—এবার সেই সম্ভাবন
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- গ্রহটি এর সূর্যের এমন এক অঞ্চলে অবস্থান করছে যেটিকে বলা হয় ‘গোল্ডিলকস জোন’—যেখানে তরল পানি থাকার মতো তাপমাত্রা থাকে। যার মানে এতে প্রাণ ধারণের পরিবেশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৩ সালে বিজ্ঞানীরা গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে মিথেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড খুঁজে পান। এই প্রথমবার কোনো বাসযোগ্য অঞ্চলের গ্রহে কার্বনভিত্তিক অণুর অস্তিত্ব ধরা পড়ল; যা প্রাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, গ্রহটির পৃষ্ঠে হয়তো একটি মহাসাগর রয়েছে এবং তার ওপর হাইড্রোজেনসমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডল রয়েছে।
গ্রহটিতে নতুন করে কী পাওয়া গেছে
এবার বিজ্ঞানীরা এমন উপাদানের সন্ধান পেয়েছেন; যা শুধুমাত্র প্রাণী দ্বারাই তৈরি হয়। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে ডাইমেথাইল সালফাইড ও ডাইমেথাইল ডিসালফাইডের উপস্থিতি শনাক্ত করেন।
পৃথিবীতে এই যৌগগুলো উৎপাদন করে মেরিন ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন নামের সামুদ্রিক অণুজীব। শুধু তাই নয়, গবেষণায় দেখা গেছে গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে এই রাসায়নিকগুলোর ঘনত্ব পৃথিবীর চেয়ে হাজার গুণ বেশি।
সহ-গবেষক মান্স হোলমবার্গ বলেন, ‘বার বার বিশ্লেষণেও এই ফলাফল পাওয়া যায়—এটা ছিল এক চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা।’
এই আবিষ্কার কতটা নির্ভরযোগ্য?
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটারস-এ; এটি একটি পিয়ার-রিভিউড জার্নাল। অর্থাৎ অন্যান্য বিজ্ঞানীরাও গবেষণাটিকে নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
তবুও বিজ্ঞানীরা সরাসরি বলছেন না যে তারা প্রাণ খুঁজে পেয়েছেন। অধ্যাপক মাধুসূদন স্বীকার করেছেন, ‘এই রাসায়নিকগুলো অজানা কোনো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের গবেষণার প্রতি সন্দ্বিহান হওয়াটাই বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যায়। যত বেশি বার যাচাই, তত বেশি নিশ্চিত হওয়া যায়।’
আরেক সহ-গবেষক সাভাস কনস্টান্টিনু বলেন, ‘এই আবিষ্কারটি একটি সূচনা। এখন প্রয়োজন আরও বিস্তর গবেষণা ও বিশ্লেষণ।’
এর আগেও কি প্রাণের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল?
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটিতেই যে এই প্রথম ভিন্ন গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া গেল-এমনটা নয়। গত কয়েক বছরে একাধিক বৈজ্ঞানিক সাফল্যের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এটিকে; যা পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।
২০১১ সালে নাসা গবেষকরা এন্টার্কটিকায় পড়া উল্কাপিণ্ডে ‘ডিএনএ’র উপাদান খুঁজে পান। গবেষকরা নিশ্চিত করেন, এই উপাদানগুলো পৃথিবীতে পড়ার পর কোনো রকম দূষণের কারণে তৈরি হয়নি। সেসময় তারা ব্যাখ্যা দেন—ধূমকেতু ও গ্রহাণুতে জীবনের প্রাথমিক উপাদান থাকতে পারে।
পরের বছর কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একটি দূরবর্তী নক্ষত্রমণ্ডলে চিনির অণু খুঁজে পান। এই চিনির অণু ‘আরএনএ’ তৈরির জন্য অপরিহার্য। আর ‘আরএনএ’ জীবনের প্রায় সব কার্যপ্রণালীতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৩ সালে বিজ্ঞানীরা শনির এনসেলাডাস উপগ্রহের চারপাশে গ্যাসে জৈব উপাদানের অস্তিত্ব খুঁজে পান।
এরপর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি বিজ্ঞানীরা পাঁচটি গ্রিনহাউস গ্যাস চিহ্নিত করেন; যেগুলো অন্য কোনো গ্রহে প্রাণের উপস্থিতির লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
তবে বিজ্ঞান সব সময়ই শুধু এগিয়ে যাওয়ার গল্প নয়, মাঝেমধ্যে বিজ্ঞানকে ভুল বা বিভ্রান্তির পথও পাড়ি দিতে হয়। ২০০৫ সালে নাসার দুই বিজ্ঞানী দাবি করেন, তারা মঙ্গলে মিথেন গ্যাস পেয়েছেন, যা প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে। যদিও পরবর্তীতে সেই দাবি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে টেকেনি এবং নাসা নিজেই সেই দাবি থেকে সরে আসে।
এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মহাবিশ্বে প্রাণের খোঁজে বিজ্ঞানীদের যাত্রা একদিকে যেমন রোমাঞ্চকর; তেমনি তা ধৈর্য, যাচাই এবং সুক্ষ্ম অনুসন্ধানের ওপরও নির্ভরশীল।
এর ভবিষ্যৎ কী
কেমব্রিজের নেতৃত্বাধীন গবেষক দল গ্রহটিতে ডিএমএস এবং ডিএমডিএস গ্যাসের উপস্থিতি ৯৯.৭ শতাংশ নিশ্চয়তাসহ শনাক্ত করেছেন। যদিও এই সংখ্যাটি অনেকটাই নির্ভরযোগ্য শোনায়, তবুও বিজ্ঞানের কঠোর মানদণ্ড অনুযায়ী এটি এখনও নতুন আবিষ্কার হিসেবে ঘোষণার জন্য যথেষ্ট নয়।
একটি আবিষ্কারকে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হতে হলে গবেষণাকে পৌঁছাতে হয় ‘ফাইভ-সিগমা’ স্তরে—যার নিশ্চয়তার মান হলো ৯৯.৯৯৯৯৪ শতাংশ।
নিক্কু মাধুসূদন
গবেষকরা মনে করছেন, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে আরও সময় বরাদ্দ পেলে এই পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।
গবেষণার প্রধান নিক্কু মাধুসূদন বলেন, ‘এখন থেকে কয়েক দশক পর আমরা হয়তো ফিরে তাকিয়ে দেখব এই সময়টাই সেই মুহূর্ত ছিল, যখন আমাদের সামনে প্রথমবারের মতো ‘জীবন্ত মহাবিশ্ব’ ধরা দিয়েছিল। এটা হতে পারে সেই মোড় ঘোরানোর সময়, যেখান থেকে আমরা হঠাৎ করে এই মৌলিক প্রশ্নটির উত্তর খোঁজার কাছাকাছি চলে এসেছি—আমরা কি এই মহাবিশ্বে একা?’
সৌরজগতের সীমানা কোথায় শেষ সৌরজগতের সীমানা ঠিক কোথায় — এই প্রশ্নের উত্তর ভাবলেই মাথা ঘুরে যায়। কারণ সীমানাটা এক জায়গায় হঠাৎ শেষ হয় না — এটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের বেশ কয়েকটি সীমানার কথা বলেন। প্রথম সীমানা হলো "হেলিওপজ"। সূর্য থেকে প্রতিনিয়ত সোলার উইন্ড বের হয় — ছোট ছোট কণার স্রোত। এই স্রোত একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে গিয়ে মহাকাশের বাইরের পদার্থের চাপে থেমে যায়। এই থামার জায়গাটাই হেলিওপজ। ভয়েজার-১ ২০১২ সালে এই সীমানা পেরিয়ে "ইন্টারস্টেলার স্পেস" বা তারার মাঝের মহাকাশে প্রবেশ করেছে। কিন্তু হেলিওপজই শেষ নয়। এর বাইরে আছে কুইপার বেল্ট, আর তারও বাইরে আছে বিশাল ওর্ট ক্লাউড। ওর্ট ক্লাউড সূর্য থেকে প্রায় ১ লাখ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বস্তুগুলো এখনো সূর্যের মহাকর্ষের আওতায় আছে — তাই এগুলোকে সৌরজগতের অংশ বলা হয়। তাহলে আসল সীমানা কোথায়? যেখানে সূর্যের মহাকর্ষ শক্তি শেষ হয় — সেটাই সৌরজগতের প্রকৃত সীমানা। এই হিসেবে সৌরজগত প্রায় ১ থেকে ২ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ভয়েজার-১ ১৯৭৭ সালে যাত্রা শুরু কর...
The most beautiful rainy season in Bangladesh https://youtube.com/shorts/NtDP_6fzqw4?feature=share The #rainy_season (বর্ষাকাল) in Bangladesh is one of the most beautiful times of the year. 🌧️ When the clouds gather and rivers overflow, the whole country turns into a green paradise. 🌿 From village paddy fields to river boat rides, every corner of Bangladesh becomes alive with beauty. 💧 Listen to the raindrops, feel the fresh breeze, and enjoy the natural charm of বর্ষাকাল. This is the true magic of monsoon in Bangladesh. 🌾🇧🇩 👉 Don’t forget to Like, Share & Subscribe for more beautiful nature shorts! 🌿 Nature’s Freshness – The #monsoon showers wash away the dust, and the whole country turns into a lush green paradise. Trees, fields, and village paths look alive and vibrant. 🌊 Rivers & Canals – Rivers swell with fresh rainwater, canals overflow, and ponds sparkle under the raindrops. Boat rides in this season feel magical, especially in rural Bangladesh. ☔ Rainfall ...
মা নুষ যখন প্রথম রাতের আকাশের দিকে তাকিয়েছিল, তখন হয়ত সে জানতই না যে ওই অসংখ্য আলোর বিন্দুর মধ্যে লুকিয়ে আছে তার নিজের অস্তিত্বের গল্প। জ্যোতির্বিজ্ঞান সেই গল্প পড়ার এক বিস্ময়কর ভাষা। এটি কেবল নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা দূরবর্তী মহাকাশের কোনো শুষ্ক বৈজ্ঞানিক তালিকা নয় বরং এটি এমন এক জ্ঞানভুবন যেখানে সৃষ্টি, সময়, পদার্থ, আলো এবং মানুষের কৌতূহল একসাথে মিলিত হয়েছে। এই কারণেই জ্যোতির্বিজ্ঞান একই সঙ্গে গভীর, জীবনঘনিষ্ঠ এবং রোমাঞ্চকর। এবং অবশ্যই আমাদের পছন্দের একটি বিষয়। মহাবিশ্বের দিকে তাকালে আমরা কেবল দূরের কোনো জগত দেখি না, আমরা দেখি আমাদের নিজের জন্মের ইতিহাস। আজ বিজ্ঞানীরা জানেন, আমাদের শরীরের কার্বন, অক্সিজেন কিংবা লোহা এসব উপাদান কোনো না কোনো প্রাচীন নক্ষত্রের অন্তরে তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ আমরা আসলে “স্টারডাস্ট”, বা নক্ষত্রের ধুলো। কোটি কোটি বছর আগে কোনো বিশাল নক্ষত্র বিস্ফোরিত হয়ে যে উপাদান ছড়িয়ে দিয়েছিল মহাকাশে, সেই উপাদান থেকেই একদিন তৈরি হয়েছে সূর্য, পৃথিবী এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ। এই উপলব্ধি আমাদের অস্তিত্বকে এক অনন্য মহাজাগতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড় করায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের আরেক...
মন্তব্যসমূহ